Product was successfully added to your shopping cart.
5

বিদ্যাকৌশল

Quick Overview

পড়াশোনায় ভালো করতে কে না চায়? আর পড়াশোনা করা কেবল আমাদের শিক্ষাজীবনেরই অংশ নয়, বরং সারাজীবনই আমরা কাজের প্রয়োজনে অথবা অন্য কোনো দরকারে কিছু না কিছু শিখে থাকি বা শেখার চেষ্টা করি।

এই চেষ্টায় কেউ সফল হয়, কেউ আবার পারে না।

কারো জন্য পড়াশোনা করা, ভালো ফলাফল করা, ভালো করে কিছু শেখা খুব সহজ কাজ।

আবার কারো জন্য এটা খুবই কঠিন একটা কাজ।

কিন্তু কেনো? মেধা? মেধা একটা ব্যাপার বটে, কিন্তু একমাত্র ব্যাপার না।

পড়াশোনা করতে গেলে, কিছু শিখতে গেলে কেবল মেধা নয়, এর সাথে সাথে লাগে কিছু কৌশল জানা। ভালো করে শেখার, মনে রাখার, এবং বুঝে শুনে সেটা কাজে লাগানোর কায়দাকৌশল।

এটা যারা জানে, তারা ভালো ছাত্র/ছাত্রী, অল্প সময়েই পড়া শেষ করে ও শিখে ফেলে তারা পরে পরীক্ষাতেও তা লিখে আসতে পারে, ভালো ফল করে। আর যারা জানে না তারা অনেক চেষ্টা করেও সেরকম ভালো ফলাফল পায়না।

মেধা জন্মগত বটে, কিন্তু গোপন কথাটা বলে দেই, মেধা কিন্তু কারো ভালো শিক্ষার্থী হবার প্রধান নিয়ামক না। অনেকগুলা ফ্যাক্টরের মধ্যে মেধা একটি মাত্র ফ্যাক্টর। এবং সুখবরটা হলো চেষ্টা দিয়ে, কায়দাকৌশল শিখে মেধার কমতিটা পুশিয়ে নেয়া অবশ্যই সম্ভব।

এই বইটাতে আসলে ভালো করে সঠিক নিয়মে পড়াশোনা করা, কোনো কিছু শেখার কায়দাকৌশল নিয়েই আলোচনা করেছি, আর এই কায়দাগুলার নাম দিয়েছি বিদ্যাকৌশল।

ভালো ছাত্ররা এই বিদ্যাকৌশল জানে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা এই কৌশলগুলা অন্যদের জানাতে চায় না, অথবা মেধার চাইতে এই বিদ্যাকৌশলের জোরেই যে তারা ভালো ফলাফল করছে, পাচ্ছে সাফল্য, সেটা তারা জানে না। এই বইটি লেখার উদ্দেশ্যই হলো সবার জন্য এই পড়ালেখায় ভালো করার কৌশলগুলা গুছিয়ে তুলে ধরা।

আমি নিজে শিক্ষাবিশেষজ্ঞ নই। তবে বিনয়ের সাথে বলতে চাই, স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আমি নিজে ভালো ফলাফল করার সাথে সাথে প্রচুর ভালো ছাত্র/ছাত্রীর সাথে পড়েছি। এখন শিক্ষক হিসাবে অনেক সময়েই ভালো শিক্ষার্থীদের খুব কাছ থেকে দেখছি। এই বইটি তার ভিত্তিতেই লেখা।

বইটা কাদের জন্য ?
বিদ্যাকৌশল বইটি আসলে সব রকমের শিক্ষার্থীদের জন্যই লেখা। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় — সব পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাই এই বইটি পড়ে উপকৃত হবেন বলে আমার বিশ্বাস। কেবল তাই নয়, যারা এখন শিক্ষার্থী নন, কিন্তু চাকুরি বা অন্য দরকারে কিছু শিখতে চান দ্রুত এবং কার্যকর ভাবে, তাদের জন্যও এই বইটিতে আলোচিত বিদ্যাকৌশল কাজে আসবে।

এই বইটা কীভাবে পড়বেন?
বইটির শুরুতে আলোচনা করা হয়েছে পড়াশোনার মটিভেশন আনা এবং সঠিক নিয়মে পড়ালেখা করার গুরুত্ব নিয়ে এক নজরে কিছু পরামর্শ দিয়ে। এর পর পড়াশোনা করার প্রস্তুতি পর্বে বলা হয়েছে পড়ার পরিবেশ ও মোক্ষম সময় নিয়ে। শ্রেণীকক্ষে বা লেকচার শুনতে গিয়ে কীভাবে ক্লাসনোট তুলবেন ও তা থেকে উপকৃত হবেন, তা আলোচনা করার পরে শেখার নানা কায়দা, দ্রুত লিখন ও পঠন, এবং দ্রুত কোনো কিছু পড়ে বোঝার উপরে এবং পড়া মনে রাখার উপরে বেশ কিছু কৌশল উপস্থাপন করেছি। পড়াশোনায় ভালো করতে গেলে মানসিক স্থিরতা এবং মনোযোগ বাড়াবার বিকল্প নাই, পরের কয়েকটি অধ্যায়ে তাই আলোচিত হয়েছে। পরীক্ষার প্রস্তুতির উপরে বেশ কয়েকটি অধ্যায়ে পরীক্ষার জন্য গুছিয়ে প্রস্তুতি নেয়া এবং পরীক্ষার আগে, পরীক্ষার দিনে, ও পরে কী করতে হবে, তা বলেছি। সবশেষে বলা হয়েছে আলসেমি থেকে বাঁচা এবং হতাশা কাটিয়ে পরীক্ষা ভীতিকে জয় করে এগিয়ে যাবার কিছু পরামর্শ। বইটি শেষ করেছি অভিভাবকদের জন্য কিছু পরামর্শ দিয়ে।



শিক্ষার্থী ও শিক্ষক হিসাবে নানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত আছি সেই ৫ বছর বয়স থেকে। আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা জানাই, তাঁদের কাজে আমার অপরিসীম ঋণ, যা কখনোই শোধ হবে না। আশা করি এই বইটির মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে, পড়াশোনা করতে, নতুন কিছু জানতে শিখতে পারবে সাফল্যের সাথে।

সব শিক্ষার্থীর প্রতি রইলো শুভ কামনা। বিদ্যাকৌশলের প্রয়োগ সফল হোক আপনাদের জীবনে।

ধন্যবাদান্তে,
ড. রাগিব হাসান
সহকারী অধ্যাপক
কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগ
ইউনিভার্সিটি অফ আলাবামা অ্যাট বার্মিংহাম
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

প্রথম রিভিউটি আপনিই লিখুন